বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রকাশের দাবিতে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন যৌথভাবে সারাদেশের ন্যায় বরিশালেও নানা কর্মসূচী পালন করে আসছে। এরইধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (০৯ জানুয়ারি) বিকেলে জুলাই এর প্রেরণা, দিতে হবে ঘোষণা! এ শ্লোগানকে সামনে রেখে বরিশাল অশ্বিনী কুমার হলের সামনে সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা ৭ দফা দাবি সম্বলিত লিফলেট বিতরণ কর্মসূচী পালনে জড়ো হন। জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ( বরিশাল বিভাগীয় দায়িত্বে থাকা ) ডা. মাহমুদা আক্তার মিতুর নেতৃত্বে সদর রোড, কাকলীর মোড়, ফলপট্রি, চকবাজার, লাইনরোডে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মাসুম বিল্লাহ, বরিশাল সদর ও মহানগরের সংগঠক মোঃ সাজ্জাদুর রহমান শাকিল মৃধা, মহানগরের সংগঠক সাজ্জাদুর রহমান শাকিল মৃধা, জেলা সংগঠক আবু সাইদ মুসা, কাউনিয়া থানার নাগরিক কমিটির সংগঠক শেখ সুমন, মোর্শেদুল ইসলাম, এনামুল হক, মোর্শেদ মাহিম, বিমান বন্দর থানার সংগঠক সোলায়মান হোসেন, কোতোয়ালী থানা, বিমান বন্দর থানা, কাউনিয়া থানা বন্দর থানার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মীসূচীতে অংশ গ্রহন করেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগরের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ, যুগ্ম সদস্য সচিব অর্নব মুবিন, মুখপাত্র ইসরাত জাহান, যুগ্ম আহবায়ক সুহান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা কাজী মো: আবু যাঈদ সহ ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
বরিশাল মহানগর নাগরিক কমিটির সংগঠক মো: সাজ্জাদুর রহমান শাকিল মৃধা জানান, জাতীয় নাগরিক কমিটির আয়োজনে শুক্রবার (১০ জানুয়ারী) বিকেল সাড়ে তিনটায় বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজ ভবনে প্রতিনিধি পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন সংগঠনের যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আক্তার মিতু। পরের দিন শনিবার বরিশাল নগরীর তিনটি থানা কমিটি গঠন বিষয়ে কর্মীদের নিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হবেন তিনি।
এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের দাবিতে ৬ জানুয়ারি থেকে জেলায় জেলায় লিফলেট বিতরণ, সমাবেশ ও জনসংযোগ কর্মসূচি পালন করে আসছে। এরআগে ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমাবেশ থেকে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ঘোষণা করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা। জুলাই ঘোষণাপত্রে ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা পরিষ্কার করাসহ ৭টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। লিফলেটে উল্লেখ করা হয়, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ কিভাবে ভয়াবহ এই ফ্যাসিবাদী জিঞ্জির ছিন্ন করেছে ঘোষণাপত্রে তার উল্লেখ থাকতে হবে। আমরা চাই অধিকার, ইনসাফ ও মর্যাদাভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র। ব্যক্তি ও সমাজের সহাবস্থানে বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক এক রাষ্ট্রকল্প যেখানে ভোটাধিকারসহ সব মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ হবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ।’
এতে আরো বলা হয়, ‘বাহাত্তর-পচাত্তরের একদলীয় শাসন এবং এক- এগারোর বিরাজনৈতিক বন্দোবস্তের পরিবর্তে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে গঠন করার সংকল্প ব্যক্ত করবে এই ঘোষণাপত্র।
বলা হয়েছে, ‘সরকারকে ১৫ দিনের মধ্যে ঘোষণাপত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার সময় বেধে দিয়েছি। আমরা ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘোষণাপত্রটি প্রকাশ করার জন্য জোরালো দাবি জানাচ্ছি। এই ঘোষণাপত্রে এ জনগোষ্ঠীর বিগত দুই শত বছরের লড়াই-সংগ্রামের স্বীকৃতি থাকতে হবে। গত ১৬ বছরের জুলুম-নিপীড়ন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করাসহ অর্থ পাচারের খতিয়ান থাকতে হবে।’
লিফলেটে বলা হয়েছে, ‘দুনিয়ার যেখানেই মুক্তিকামী জনগোষ্ঠী স্বৈরাচার উৎখাত করেছে কিংবা গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করেছে সেখানেই অভ্যুত্থানের শক্তি এ ধরনের ঐতিহাসিক অর্জনকে স্বীকৃতি দিতে জনগণের সামনে ঘোষণাপত্র তুলে ধরেছে। ফরাসি বিপ্লব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আলজেরিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের বিপ্লবী জনগোষ্ঠীর ইতিহাসে আমরা এ ধরনের নজির দেখেছি।’ এতে বলা হয়, ‘ঘোষণাপত্রই হবে বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের বৈধতার উৎস এবং পরবর্তী সংবিধানের ভিত্তিমূল।’
অন্যান্য ৬টি বিষয়ের মধ্যে আছে- জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে আহতদের বিনামূল্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুচিকিৎসা প্রদানের প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করতে হবে; ঘোষণাপত্রে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব পরিস্কারভাবে উল্লেখ থাকতে হবে; অভ্যুত্থানে আওয়ামী খুনী ও দোসরদের বিচার নিশ্চিত করার স্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে; ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি সংবিধান বাতিল করে নির্বাচিত গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নের অঙ্গীকারব্যক্ত করতে হবে; নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তে সব ধরনের বৈষম্য নিরসনের মধ্য দিয়ে নাগরিক পরিচয় প্রধান করে রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের একমাত্র প্রধান লক্ষ্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারকে উৎখাত করা ছিল না, বরং গত ৫৩ বছরের বৈষম্য, শোষণ ও ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিলোপ করার লক্ষ্যে এ অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। সুতরাং বিদ্যমান ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো বিলোপ করতে সব ধরনের সংস্কারের ওয়াদা দিতে হবে বলে দাবি জানানো হয়।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply